উৎসবের আগে পেডিকিউর করিয়েছিলেন। কিন্তু উৎসবের দিনগুলোতে একটানা প্যান্ডেল হপিং, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আর নতুন জুতার ঘষায় পায়ের ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়তে পারে। রোদে পা পুড়ে যাওয়া কিংবা নতুন জুতার কারণে ফোসকা পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে পার্লারে না গিয়েও বাড়িতে কয়েকটি সহজ উপায়ে পায়ের যত্ন নেওয়া সম্ভব।
পা পরিষ্কার করুন আলতোভাবে
পায়ের গোড়ালি ও পাতায় মৃত কোষ জমে ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখলে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করা সহজ হয়। এরপর পিউমিস স্টোন দিয়ে গোড়ালি ও পায়ের তলার শক্ত ত্বক আলতোভাবে ঘষে নিতে পারেন। তবে কোথাও ফোসকা, ক্ষত বা ত্বকে জ্বালাপোড়া থাকলে সেই অংশে ঘষাঘষি করবেন না।
চাইলে পায়ের শক্ত ত্বকে চিনি ও নারিকেল তেল দিয়ে তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। তবে ত্বক সংবেদনশীল হলে বা ফোসকা ও ক্ষত থাকলে স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে ত্বকের জ্বালা ও ক্ষতি বাড়তে পারে।
নখের যত্ন নিন
পায়ের নখ প্রয়োজনমতো ছোট করে কেটে নিন এবং নখের চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। নেলপলিশ লাগানো থাকলে রিমুভার দিয়ে তুলে কয়েক দিন নখে নতুন করে রং না লাগালেও পারেন। নেল এক্সটেনশন করানো থাকলে নিজে জোর করে তা তুলবেন না। নখের চারপাশ পরিষ্কার করার সময়ও সতর্ক থাকুন, যাতে ত্বকে আঘাত না লাগে।
হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন
একটি পাত্রে হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে অল্প মাইল্ড শ্যাম্পু মিশিয়ে ১০–১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে পায়ের ময়লা পরিষ্কার করা সহজ হবে এবং হাঁটাহাঁটির পর কিছুটা আরামও মিলতে পারে। চাইলে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন, তবে ত্বকে অস্বস্তি বা অ্যালার্জি হলে তা ব্যবহার করবেন না। পানি যেন খুব গরম না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না
পা পরিষ্কারের পর নরম তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন। এরপর পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে ফুট ক্রিম বা ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগান। বিশেষ করে গোড়ালির শুষ্ক অংশে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে আরামদায়ক সুতির মোজা পরে নিতে পারেন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সুবিধা হয়।
তবে পায়ে ফোসকা বা ক্ষত থাকলে সেখানে স্ক্রাব, সুগন্ধি তেল কিংবা ঘি লাগানো এড়িয়ে চলুন। ফোসকা খোঁচাবেন না বা ফাটাবেন না। ক্ষতস্থানে লালচে ভাব, ফোলা, পুঁজ কিংবা বাড়তে থাকা ব্যথা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
উৎসবের পর পায়ের যত্নে সবচেয়ে জরুরি হলো কোমলভাবে পরিষ্কার করা, ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে বিশ্রাম দেওয়া। নিয়মিত যত্নে পায়ের রুক্ষতা কমতে পারে এবং পা ফিরে পেতে পারে স্বস্তি।
জি বাংলা ডেস্ক